দোমহনীর গোলকধাঁধাঁয়।।
আমার জীবনের আধিভৌতিক এবং ভৌতিক
অভিজ্ঞতাগুলো,যেগুলোর জন্য
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হয়তো আমার পারিপার্শ্বিক পরিমন্ডল দায়ী কিংবা অজ্ঞাতেই হয়তো বা বাবার সাহচর্য্য দায়ী।কারন আমি আগেই আমার লেখা দুটো অভিজ্ঞতায় জানিয়েছি (ঝুমুরের অভিজ্ঞতা, কালীপূজোর ভয়াল রাতে) জ্ঞানতঃ বাবা কোনোদিনও চাননি যে আমি এইসব ভৌতিক বা পারলৌকিক কার্যক্রমে কোনোভাবেই মনোনিবেশ করি।কিন্তু স্বাভাবিক কারনেই ছোট্ট থেকেই আমার এইসব নিষিদ্ধ ব্যাপারেই উৎসাহ ছিল সব চাইতে বেশী।এবং সেই কারনেই বাহাদুর,ম্যানড্রেক,বাঁটুল দি গ্রেট এবং অমর চিত্র কথা পড়ার পাশাপাশি বাবার বইয়ের র্যাক থেকে নামিয়ে সেসব বইয়ের ভেতর ঢুকিয়ে পড়ে ফেলতাম ভোজবাজি,ইন্দ্রজাল এসব সম্পর্কিত সব বাংলা পুঁথি।এছাড়াও স্বামী অভেদানন্দজীর "মরণের পারে" এবং রাজেন্দ্রলাল আচার্য্যর " মৃত্যুর পরপারে"।এছাড়া আরো অনেক মহান যোগীর জীবনী পড়ে ফেলেছিলাম সেই বয়েসেই।আমার এসব আধিভৌতিক এবং ভৌতিক অভিজ্ঞতাগুলো লেখা শেষ হয়ে গেলে আমার ইচ্ছে রইলো এমন একজন মহান যোগী সম্পর্কে আপনাদের অবহিত করাবো যিনি এখনো হিমালয়ে বিরাজমান এবং আমার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ আছে।উনি আমার বাড়িতেও গত তিন বছরে খুব গোপনে দুবার এসে থেকে গেছেন।আমাদের অতীতের এবং আজকের ভারতের তাবড় তাবড় কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যাঁর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন।সেসব বিষয়ে ভবিষ্যতে আপনাদের জানানোর ইচ্ছে রইলো।
যাই হোক,আজ হঠাৎ যে অভিজ্ঞতাটি মনে পড়লো সেটি ২০১০ সালের জুন মাসে আমার জীবনে ঘটেছিল এবং সব চাইতে মজার এবং আশ্চর্যের ব্যাপার হল এই ঘটনাটি আমার সাথেই শুধু ঘটে নি।সেদিন আমার সাথে আমার বাবা নিজেও উপস্থিত ছিলেন।সেই কারনে এই ঘটনাটি আমার কাছে ছিল চূড়ান্ত মজাদার।
২০০৮ সালে আমি বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হই জলপাইগুড়ি থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরের ময়নাগুড়িতে।সেই সময়ে আমার স্ত্রীয়ের বাড়ির অভিভাবিকা ছিলেন ওর ঠাকুমা।আমাদের বিয়ের বছরখানেক পরেই উনি স্বাভাবিক বয়েসজনিতঃ কারনেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ক্রমান্বয়ে দীর্ঘদিন আমাদের জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।এভাবেই একদিন ভুগতে ভুগতে ২০১০ সালের জুন মাসের প্রবল বর্ষার দিনে উনি ইহলোকের মায়া ত্যাগ করেন।
সেই ২০০৮ সালের গোটা জুন মাসটিই ছিল চূড়ান্ত বর্ষণমুখর।আমার মনে আছে আমি যখন মোটর সাইকেল নিয়ে তিস্তা সেতু অতিক্রম করছিলাম,নীচে তিস্তা তখন ফুঁসছিল।
এমনিতেই ফি বছর জলপাইগুড়ির বৃষ্টি এবং তার সাথে পাল্লা দিয়ে তিস্তা,জলপাইগুড়ি তথা সমগ্র উত্তরবঙ্গের মাথা ব্যথার কারন হয়ে দাঁড়ায়।আমি তুমুল বর্ষা মাথায় নিয়ে বর্ষাতি মুড়ে কোনক্রমে ময়নাগুড়ি পৌঁছলাম দুপুর নাগাদ।কিছুক্ষণ পরেই শুরু হল তুমুল সর্দি-জ্বর।কোনোভাবে সেটজিন,প্যারাসিটামল এসব খেয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালাতে লাগলাম। সন্ধ্যে নাগাদ স্থানীয় শ্মশানে দেহ দাহ করে সব লৌকিক কার্যাবলী সমাধা করে সবাই আবার ঘরে ফিরে গেলাম।সেদিনের মতো আমিও থেকে গেলাম ময়নাগুড়িতেই।
কিছুদিন বাদে ছিল ঠাকুমার শ্রাদ্ধানুষ্ঠান। আমার স্ত্রী ওই বাড়িতেই থেকে গেছিল ওই কয়দিন।তাই এখান থেকে আমি আর আমার বাবা সকাল ১১-৩০ মিনিট নাগাদ আমার মোটর সাইকেলেই রওনা দিলাম,বাবার চিরকালই মোটরবাইক চড়াতে ছিল তুমুল অনীহা কিন্তু আমিও ছিলাম একগুঁয়ে,আমার সবসময়েই একটা লক্ষ্য থাকতো,কিভাবে বাবার হাঁটা-চলাটাকে কমানো যায়!কারন আমি চাইতাম বাবার কষ্টটাকে যাতে লাঘু করা যায়,কিন্তু বাবা কার্যতঃ পারলে গোটা জলপাইগুড়ি হেঁটে ঘুরে বেড়ালে খুশী হতেন।
তো,নিমরাজী বাবা আর আমি বাইকে এক সময়ে পৌঁছেও গেলাম ওই বাড়ি।বাবা বহু আগে থেকেই শ্রাদ্ধ বাড়িতে অন্নগ্রহণ বন্ধ করে দিয়েছিলেন।কারন হিসেবে অনেক ব্যাপার আছে,সেসব অন্য কোনো সময়ে আবার বিশদে বলার ইচ্ছে রইলো।শুধু বাবার কাছে শোনা একটি ছোট্ট কাহিনী বলি।স্থান-কাল-পাত্র,নাম এদিক ওদিক হতে পারে,পুরোটা মনে নেই,কারো মনে থাকলে বা জানা থাকলে অনুগ্রহপূর্বক আমাকে শুধরে দেবেন এই অনুরোধ রইলো।
একবার শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কাছে নাকি এক ব্যক্তির পরিবার এসে লুটিয়ে পড়েছিল কারন সেই ব্যক্তি কৃষ্ঞনামে পাগল।দিন-রাত তিঁনি কৃষ্ঞভজনা করতে করতে সমাধিস্থ হয়ে পড়তেন। এই কারনে ওই ব্যক্তির পরিবারে হাঁড়ি চড়া বন্ধ হয়ে পড়ে,সবাই প্রমাদ গণে ওই উন্মাদ ব্যক্তিকে নিয়ে আসেন মহাপ্রভূর কাছে।সব শুনে শ্রীচৈতন্য নিদান দেন,নিকটস্থ শ্রাদ্ধানুষ্ঠান বাড়ির থেকে একটু অন্ন এনে ওই ব্যক্তির মুখে স্পর্শ ক রানোর জন্য।সেইমতো করানোর সাথে সাথেই ওই কৃষ্ঞভক্ত ব্যক্তি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে যান এবং পরিবারের সাথে সংসারে ফিরে যান।এর কারন হিসেবে পরবর্তীকালে শ্রীচৈতন্য বলেছিলেন,ওই উপার্জিত সমস্ত পুণ্য ওই শ্রাদ্ধবাড়ির অন্নভোগে আমূল মুছে গেছিল এবং তাই সেই ব্যক্তি আবার পার্থিব সংসারের মায়ায় ফিরে আসতে পেরেছিলেন।
সেই গল্প বাবার কাছে শুনেছি বেশ কিছুবার।আমিও এখন আর পারতপক্ষে কোনো শ্রাদ্ধবাড়িতে অন্নগ্রহণ করি না।
আমি আর বাবা যখন সব কার্যাবলী সম্পন্ন করে ফেরার জন্য প্রস্তুত হই তখন প্রায় বিকেল ৫ টা।
আকাশে দূর্যোগের ঘনঘটা শুরু হয়ে গেছিল।আমরা আর দেরী না করে সকলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রওনা হলাম জলপাইগুড়ির উদ্দেশ্যে।ময়নাগুড়ি থেকে জলপাইগুড়ি সড়কপথে যাতায়াতে সময় লাগে ৩০ মিনিট মতোন।তবে আমি মোটরসাইকেল কেনার পর থেকে আজ অবধি আমি বাসে আর ময়নাগুড়ি যাইনি।আর বাইকে গেলে আমি ৯৯% ক্ষেত্রে দোমহানীর ভেতর দিয়েই ময়নাগুড়ি যাই।কিছুটা ঘোরা হলেও তিস্তার কোল ঘেঁষা,বাঁধের ওপর দিয়ে তৈরী এই রাস্তা প্রকৃতির এক অদ্ভুত মায়া বিছিয়ে রাখে সর্বদা।এমনিতেই দোমহানীর ঐতিহাসিক মূল্য অনেক,তার ওপরে দোমহানী,মরিচবাড়ি ওইসব রাস্তা দিয়ে ময়নাগুড়ি যাতায়াতের এক অদম্য নেশা আর মায়া আছে।দোমহানী নিয়ে অনেক অনেক ভৌতিক উপাখ্যানও শুনে এসেছি বহুকাল থেকে কিন্তু আমি রাত দুটোতেও মোটরসাইকেল নিয়ে আমার স্ত্রীকে নিয়ে সেই রাস্তা দিয়েই ময়নাগুড়ি গেছি দরকারে।অভিজ্ঞতাও হয়েছে,কিন্তু বিপদে ফেলতে পারেনি আমাদের কখনোও।দোমহানীর রাস্তা আমার হাতের তালুর মতো চেনা।চোখ বন্ধ করেও সেই রাস্তা দিয়ে জলপাইগুড়ি-ময়নাগুড়ি যাতায়াত করতে পারি অক্লেশে।
কিন্তু আজও এত বছর পরেও হাসি পায় সেই দিনের কথা ভেবে।আমি আর বাবা যখন আর পি এফ ট্রেনিং সেন্টার অবধি পৌঁছলাম তখন আকাশ রীতিমতো অন্ধকার।বিকেল ৫-১৫ বা ৫-২০ হবে।এমনিতেও বাবা সাথে থাকলে আমি কম গতিতেই বাইক চালাতাম,আর বাবা বাইকে উঠলে আমিই যেচে-যেচে নানারকম প্রসঙ্গ উত্থাপন করে সেই সব বিষয়ে আলোচনার সুযোগ খুঁজতাম।বেশীর ভাগ সময়েই বিফল হতাম কিন্তু তার জন্য আমার উৎসাহের খামতি ছিল না।
গল্প করতে করতে আমিও একটু অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছিলাম নিশ্চই কারন আর পি এফ ট্রেনিং সেন্টারের সামনের মোহময়ী দুপাশের বড় বড় গাছের সারি দেওয়া ছায়াঘেরা রাস্তাটা অবধি এসেছিলাম সেটুকু আমার স্পষ্ট মনে ছিল।কিন্তু এ কি?!!
হঠাৎ দেখি আমাদের দুপাশে বড় বড় কালো জলের দীঘি।আমার যতোদূর মনে পড়ে,কমপক্ষে গোটা চার-পাঁচেক ইয়াব্বড় বড় দীঘি।তাইতে গভীর স্থির কালো জল।আর সেই দীঘিগুলোর মাঝখানে একখানা সরু আল।সেই আলের ওপর আমার বাইক।আমি আর বাবা! আকাশ কাজলের মতো অন্ধকার।মনে হচ্ছে মাঝরাত!কোত্থাও কেউ নেই,কোনো আওয়াজ নেই।সব চাইতে বড় কথা বাইকখানা বের করার কোনো রাস্তা অবশিষ্ট নেই,শুধু একটুকরো আল।আর তার ওপরে আমরা দুজন।আর চারদিকে জল।
আমি তো হাঁ।শুধু এদিক আর ওদিক দেখছি,মাথা ফাঁকা।কোনো চিন্তা নেই,ভাবনা নেই,বুদ্ধি নেই,ভয় নেই,কিচ্ছু নেই।পাশে কে আছে না আছে সেই বোধও নেই।বেশ কিছুক্ষন বাদে সম্বিত ফিরলো।আস্তে-আস্তে বুদ্ধি মাথা চাড়া দিল।সাথে ভয় চাগাড় দিল।সেই সঙ্গে এটাও মনে পড়লো এই প্রথম কোনো ভৌতিক অভিজ্ঞতায় সাথে বাবা রয়েছেন। বাবার দিকে চোখ গেল।নির্লিপ্ত বাবা দেখি অভ্যেসমতো দেশলাইয়ের কাঠিকে টুথপিক বানিয়ে দাঁতের ফাঁক থেকে সুপুরির কুচি বের করতে ব্যস্ত।আমার দিকে তাকিয়ে বোকা-বোকা মুখ করে হেসে বললেন,"কি রে,কি ফ্যাসাদে পড়লাম বল তো?"
তারপর আমাকে বললেন,"বন্ধন দেওয়া আছে? না থাকলে দিয়ে নে।"
আমি আগেও বলেছি,মা মারা যাওয়ার পর থেকে আমি সব সময়ে বাইরে বেরোলেই গা বন্ধন দিয়ে বেরোতাম।কিন্তু একটা নিয়ম আছে।কখনো মূত্র ত্যাগ করলে আবার নতুন করে বন্ধন দেওয়া আবশ্যক।তাই অত চিন্তা না করে আমি আরেকবার সেই কাজটা সমাধা করে ফেললাম।
কিছুক্ষণ সেভাবেই দাঁড়িয়ে থাকলাম দুজন।আস্তে আস্তে উপলব্ধি করলাম আমার ভয়ের বদলে কৌতুক অনুভব হচ্ছে।এমনিতেও দু-একবার দু-একখানা বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া এসব ব্যাপারে ভয় আমি কোনোকালেই পাই না।তার ওপরে সাথে বাবা থাকাতে আমার সাহস তখন মাত্রাছাড়া।বাবা চিরকালই গায়েত্রী মন্ত্রকে খুব প্রাধান্য দিতেন।সেকারনেই হয়তো প্রথমেই পৈতে বের করে গায়েত্রী জপে নিয়েছিলেন,অবশ্য সেটা নিছকই আমার অনুমান।তারপর নিজের জামাটা খুলে সেটাকে উল্টো করে পরে ফেললেন।মানে জামার বোতামের দিকটা পিঠের দিকে করে জামাটা পরলেন।এই টোটকাটা বাবা আমাকে আগেই শিখিয়েছিলান,সেদিন প্রথম প্রত্যক্ষ করেছিলাম। এর অব্যবহিত পরেই বাবা ওই আলের ওপর দিয়েই জল ভেঙে কিছুটা এগিয়ে গেলেন,আমিও পিছু-পিছু গেলাম।বাইকখানা ওই আলের ওপরেই কাৎ করে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলাম।আশ্চর্যের ব্যাপার ছিল,সেই নিথর গভীর কালো জলের পুকুরের মাঝে,এক চিলতে মাটির আলের ওপর আমরা বিক্ষিপ্তভাবে দাঁড়িয়ে ছিলাম,চারিদিকে জল ছিল।কিভাবে সেখানে পৌঁছলাম,সেসব তো যুক্তি-তর্কের বাইরে! কিন্ত বাবা যখন কোনো জপ করে,জামাটা ওইভাবে পরে জলের মাঝেই পা বাড়িয়েছিলেন,আশ্চর্যজনকভাবে পায়ের নীচে দুজনেই জমি খুঁজে পেয়েছিলাম।দু-মিনিট সেই জনাকীর্ণ জনমানবশূণ্য এলাকায় হেঁটে হঠাৎ সামনে দেখি সাদা স্যান্ডো গেঞ্জী আর নীল চেক লুঙ্গী পরে এক টেরিকাটা গ্রাম্য যুবক দীঘিতে মাছ ধরছে।বাবা সটান তার সামনে গিয়ে জোর গলায় একটা প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছিলেন।পরে জেনেছিলাম সেই প্রশ্নটাই একটি মন্ত্র ছিল,তাই সেটি আমি এখানে আর লিখলাম না।বাবার কাছে শুনেছিলাম,এসব ক্ষেত্রে বা আশ্চর্যজনকভাবে দিকভ্রষ্ট্র হলে,বা পথ হারিয়ে ফেললে সেই মন্ত্র একদম অবর্থ্য।বাবার প্রশ্নের পরে সেই যুবক একদম নির্লিপ্তভাবে আমাদের দিকে তাকালো।কোনোভাবেই মনে রাখার মতো চেহারা নয় সেই ব্যক্তির,একদম সাধারণ অভিব্যক্তি।তারপর আঙুল তুলে আমাদের পশ্চিম দিক দেখিয়ে দিল।বাবা তবুও জোর গলায় বললেন,"তুই নিজে পথ দেখিয়ে দে"।অনিচ্ছা সত্ত্বেও যেন সেই ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালো।তারপর এগিয়ে চললো।বাবা আমাকে ইশারা করাতে আমি পেছনে তাকালাম।দেখলাম অনতিদূরেই আমার মোটরবাইকটি,আমি গিয়ে নিয়ে এলাম।এবং পুরোটাই এলাম মাটির আলের ওপর দিয়ে,দেখলাম পিচ রাস্তা থেকে আলের রাস্তা নেমে গেছে দীঘিগুলোর মাঝখান বরাবর,তারই ওপরে আমার বাইক রয়ে গেছে।কোনো দৃশ্যের সাথে কোনো দৃশ্য মিলছে আবার কখনো মিলছে না।যাই হোক,আমি বাইক স্টার্ট দিয়ে ওদের পেছনে গেলাম।লোকটি মিটার পঞ্চাশেক এগিয়ে গেল আমাদের আগে-আগে।তারপর আঙুল তুলে আবার একটি পথ দেখিয়ে দিল।দেখলাম একটি শুঁড়িপথ বাঁধের গা বেয়ে উঠে গেছে আর দূরে দেখা যাচ্ছে গাড়ি,ঘোড়া চলছে।
বাবা এসে উঠে বসলেন আমার পেছনের সিটে।তারপর বললেন,"কোনোভাবেই পেছনে তাকাবি না,সোজা রওনা দে।ভয়ের কোনো কারন নেই,কাজ হয়ে গেছে।"
আমিও নির্দ্বিধায় সেই পথ বেয়ে তরতর করে উঠে গেলাম কোনোদিকে না তাকিয়ে।কিছুক্ষন বাদেই পৌঁছে গেলাম দোমহনীর বাঁধে।বাবার আদেশে একটি অপেক্ষাকৃত ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়েছিলাম বাবা আবার জামাটা খুলে ঠিকমতো পরে নেওয়ার জন্য।তারপর দোমহনীর বিখ্যাত মল্লিকের চায়ের দোকানে বিখ্যাত ঘন দুধের চা খেতে খেতে নামলো আকাশ ভেঙে বৃষ্টি।
বেশ কিছুক্ষণ বাদে বৃষ্টি কমলে তারপর আমরা বাড়ি ফিরে এসেছিলাম।এই ঘটনাটা আমার জীবনে একটি মজার অভিজ্ঞতা হিসেবেই থেকে যাবে চিরকাল।আপনাদের অনেক মতামত এবং ভালোবাসা পাচ্ছি আমার অভিজ্ঞতাগুলো জানিয়ে,সেটাই আমার পরম প্রাপ্তি।আপনাদের জিজ্ঞাস্য কিছু থাকলে বা আপনাদের যেকোনো মতামত নিঃসংকোচে জানালে খুশী হবো।
© Anirban Banerjee
Comments
Post a Comment