Posts

Showing posts from 2020

একবাক্যে বাক্যহারা!

আপিস ফেরত দোমহনী বাজার  থেকে তিস্তার বেশ বড় নধর বোয়ালটা সস্তাতেই পেয়ে হাতে দড়িতে বাঁধা মাছটা ঝোলাতে ঝোলাতে বাঁধ বেয়ে বেশ কিছু পথ পেরিয়ে এসে বিপুলবাবুর মনে হল মাছটা না কাটিয়ে বাড়ি নিয়ে গেলে এই ভর সন্ধ্যায় গিন্নী বড়োই মুখ ঝামটা দেবে,সাত-পাঁচ ভাবতেই বাঁধের ধারে এক সিড়িঙ্গে লোককে দেখতে পেলেন মোম জ্বালিয়ে আঁশবঁটি নিয়ে বসে আছে,বিপুলবাবু মাছটা কাটতে দিয়ে একটা মজলিশি বিড়ি ধরিয়ে বোয়াল মাছের রসায় ডুবে যেতে যেতেই ক্যারিব্যাগে মাছটি ফেরত পেয়ে মোড়ে এসে ভ্যান রিক্সায় চেপে বাড়ি পৌঁছলেন আর গিন্নীর হাতে সোল্লাশে মাছটি তুলে দিলেন, তারপর------- গিন্নী ক্যারিব্যাগ থেকে বের করে আনলেন গোটা আড়াই কেজি বোয়াল মাছের একটি আস্ত রগরগে কঙ্কাল! ©Anirban Banerjee

গরুমারার গেরো!

আজকে যে ঘটনাটি জানাতে চলেছি,সেই সম্পর্কে আমি নিজে এখনো প্রচুর কাহিনী শুনে থাকা সত্ত্বেও আমি নিজে কিন্তু সেই এলাকায় বারংবার ঘুরেও কোনো অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হইনি।এমন কি রাত দুটোর সময়েও আমি ও আমার স্ত্রী সেই নিশ্চিন্দ্র বিরাট জঙ্গলের সুদীর্ঘ নিশ্চল নিশ্চুপ পথে  গাড়ি নিয়ে দুই-তিন পাক দিয়েও কোনো অশৈলী ঘটনার সাক্ষী থাকতে পারিনি।হ্যাঁ,আজ আমি আমাদের ঘরের,আমাদের ডুয়ার্সের গরুমারা অভয়ারণ্যের কথাই বলছি!এই অভয়ারণ্য এবং এর গা ঘেঁষা টিয়াবন এবং লাটাগুড়ি নিয়ে প্রচুর জনশ্রুতি প্রচলিত আছে।সেই কলেজ জীবন থেকে এসব নিয়ে প্রচুর গল্প শুনে এসেছি।সেই আমলে বেশ কিছু পোড়ো বাড়ি এবং অভিশপ্ত জায়গাতে আমাদের দু-চারজন বন্ধুর ভূত খোঁজার  অভিসার চলতো প্রায়ই।কিন্তু কোনোদিন কোনো প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা হয়নি সেসব জায়গায়।কিন্তু লাটাগুড়ি ফরেষ্টের ভেতরকার প্রচুর গল্প তখনো শুনতাম,এমনকি এখনো শুনি।সেখানে,বিশেষ করে টিয়াবন আর  বীচাভাঙা লেভেল ক্রসিং এই দুই জায়গা নিয়ে সব চাইতে বেশী ঘটনার উল্লেখ মেলে।একজন সুশ্রী যুবতী নাকি মোটরবাইকে কোনো আরোহীকে একা পেলে তার কাছ থেকে লিফট চান এবং প্রায় সব ক্ষেত্রেই শোনা গেছে বেশীরভাগ আরোহীই নাকি...

দুর্গাপূজোর দোরগোড়ায়!

বিগত বেশ কিছু সপ্তাহ ধরে আমি শুধু আমার অভিজ্ঞতাই শুনিয়ে শুনিয়ে আপনাদের ধৈর্য্যচ্যূতি ঘটাচ্ছি,তাই ভাবলাম আজ একটু অন্যের অভিজ্ঞতার বর্ণনা শোনানো যাক।যদিও এই ঘটনার মধ্যে ভৌতিক উপাদান বা আকর কতোখানি আছে,সেটা নিয়ে আমি নিজেও কিছুটা অন্ধকারে,তবুও সেই বিচারের গুরুদায়িত্ব আজ আপনাদের ওপর বর্তালাম।এক্ষেত্রে আমি আগেই খুব জোর দিয়ে আরেকটি কথা নিজের দায়িত্ব নিয়ে বলে রাখছি।ভূত বলুন বা অশরীরি, আমাদের ছোটবেলার বা বড়বেলার গল্পে শোনা বা পড়া বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা জেনেছি যে,ওনারা আলো সহ্য করতে পারেন না!এমনকি,আমার জন্মের আগেও আমার বাবা যখন রীতিমতো প্রেতচর্চা করতেন,সেই ঘটনাগুলোও অনেক বড় হওয়ার পরে যখন বাবার কাছ থেকে অনেক কষ্টে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে শোনার চেষ্টা করতাম,বাবাও কিন্তু এই একই কথা আমাকে বলে গেছেন।আবার আমি আমার এক অভিজ্ঞতায় হিমালয়ের যে মহান যোগীর উল্লেখ করেছিলাম,যাঁর সাথে আমার নিয়মিত যোগাযোগ আছে (আমাদের প্রাক্তণ এক রাষ্ট্রপতির তিনি ভাই),তিনি কিন্তু আবার ওঁনার এক ঘটনায় আমাকে প্রখর রোদের মাঝেও দিনের পর দিন প্রেতাত্মার কর্মকান্ডের কথা শুনিয়েছেন।এমনকি ঝুমুরের ঘটনা,বা দোমহনীর ঘটনা বা কালীপূজোর সেই রাতের ঘটনা,য...

এক লাইনের ভূতের গল্প।

রাতের বেলা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে ঘরে ফিরে বিছানার দিকে তাকিয়ে  অবনীবাবু দেখলেন তিনি বিছানাতেই শুয়ে আছেন।

জলশহরের আলেয়া।।

প্রথমেই আপনাদের জানিয়ে রাখি,আজ যে ঘটনাটা লিখতে চলেছি সেটি আমার নিজের শহরের অর্থাৎ জলপাইগুড়ির বুকেই আমার সাথে ঘটেছিল।আমার জীবনে ঘটা আগের যে তিনখানা ভয়ঙ্কর এবং মজার ঘটনাগুলো লিখেছিলাম,এই ঘটনা তার থেকে অনেকটাই আলাদা।অন্ততঃ আমার ক্ষেত্রে এই ঘটনাটির আলাদা একটি স্থান সব সময়েই থেকে যাবে কারন এই ঘটনাটির আগে আরো অন্যান্য অনেক ঘটনা ঘটে গেলেও এই অভিজ্ঞতার সময় আমি একটু ভয় পেয়েছিলাম।যদিও ভয়টা তখন ছিল না,ভয়টা এসেছিল বেশ কিছুদিন বাদে এবং তা বেশ কিছুদিনের জন্য আমার মনে গেঁথে বসেছিল।কিন্তু আজ এই ঘটনাটা লিখতে গিয়ে প্রথমেই আরো যে ব্যাপারটা আপনাদের জানানো প্রয়োজন সেটা হল,আমার সাথে সেদিন যে তিন জন বন্ধু উপস্থিত ছিলো,তাদের প্রত্যেকেরই আপত্তি আছে নিজেদের নাম প্রকাশ করাতে,সেই জন্য আমার নিজের পরিচয় এবং স্থান,কাল সব এক রেখেও আমাকে আমার ওই তিন বন্ধুর নাম পরিবর্তন করতে হচ্ছে।আশা করি এটুকু খুঁত আপনারা মার্জনা করে দেবেন। আমি যে সময়কার কথা বলছি,সেটা ২০০৭ সাল।২০০৬ সাল থেকে জলপাইগুড়ির বেগুনটারীতে আমার কম্পিউটারের দোকান। তখনো আমি ফটোগ্রাফিকে পেশা হিসেবে শুরু করিনি।কিন্তু আমার তখনকার এক অন্যতম প্রিয় বন্ধু ছিল এক ফটোগ্রা...

কেরালা।।

কেরালা, তুমি বিদ্বান তবু মান-হুঁশ কিছু নেই, তোমার জঠরে মানুষ? প্রভু! সে শুধু রুপেতেই। কেরালা, তোমার শরমেতে আজ- মাথা হয়ে গেছে নত, ধিক্কারে ভরা-করে গেলে কাজ, সমাজের বুকে ক্ষত। কেরালা, আজ রক্তঅশ্রু,ঝরছে দুর্নিবার, মানবতা মাথা খুঁড়ছে আর,বুকে শুধু হাহাকার! (আজ ৩-৬-২০২০,কেরালায় আনারসের ভেতর বাজি ভরে গর্ভবতী হাতীকে হত্যার পরে,আর কিছু ভাল লাগছে না।) © Anirban Banerjee

দোমহনীর গোলকধাঁধাঁয়।।

আমার জীবনের আধিভৌতিক এবং ভৌতিক অভিজ্ঞতাগুলো,যেগুলোর জন্য  অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হয়তো আমার পারিপার্শ্বিক পরিমন্ডল দায়ী কিংবা অজ্ঞাতেই হয়তো বা বাবার সাহচর্য্য  দায়ী।কারন আমি আগেই আমার লেখা  দুটো অভিজ্ঞতায় জানিয়েছি (ঝুমুরের অভিজ্ঞতা, কালীপূজোর ভয়াল রাতে) জ্ঞানতঃ বাবা কোনোদিনও চাননি যে আমি এইসব ভৌতিক বা পারলৌকিক  কার্যক্রমে কোনোভাবেই মনোনিবেশ করি।কিন্তু স্বাভাবিক কারনেই ছোট্ট থেকেই আমার এইসব নিষিদ্ধ ব্যাপারেই উৎসাহ ছিল সব চাইতে বেশী।এবং সেই কারনেই বাহাদুর,ম্যানড্রেক,বাঁটুল দি গ্রেট এবং অমর চিত্র কথা পড়ার পাশাপাশি বাবার বইয়ের র‍্যাক থেকে নামিয়ে সেসব বইয়ের ভেতর ঢুকিয়ে পড়ে ফেলতাম ভোজবাজি,ইন্দ্রজাল এসব সম্পর্কিত সব বাংলা পুঁথি।এছাড়াও স্বামী অভেদানন্দজীর "মরণের পারে" এবং রাজেন্দ্রলাল আচার্য্যর " মৃত্যুর পরপারে"।এছাড়া আরো অনেক মহান যোগীর জীবনী পড়ে ফেলেছিলাম সেই বয়েসেই।আমার এসব আধিভৌতিক এবং ভৌতিক অভিজ্ঞতাগুলো লেখা শেষ হয়ে গেলে আমার ইচ্ছে রইলো এমন একজন মহান যোগী সম্পর্কে আপনাদের অবহিত করাবো যিনি এখনো হিমালয়ে বিরাজমান এবং আমার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ আছে।উনি আমার বাড়িতেও গত তিন বছরে খুব...

তরাজু।

বুক-পেট এক হয়ে বিপ্লবে বাধা একমুঠে চকচকে ইস্পাত ছুরি, বধিরের রাজত্বে বৃথা-গলা সাধা হবু-গবু একজোট!আহা,কি বা জুড়ি! অভুক্ত রাজপাট-কোষ ভরা জ্বালা ঋণদায়ে অস্ফুট,হাঁড়িকাঠে মাথা, রোজ রাতে একটাই গেয়ে চলা পালা সকালে অপ্রতীম,লেখে বীর গাঁথা। লুটেরার সম্পদে অধিকারী রাজা দর্পনে বিম্বিত সামাজিক ত্রুটি, ঝুপড়িতে বাস করে-ভোগবাদী সাজা তরাজুতে হাহাকার,মুখে পোড়া রুটি।

অশ্বমেধ।

আমি রাজসূয় যজ্ঞে উপনীত হয়েছি বারংবার, বৃদ্ধিশ্রাদ্ধে বিলিয়েছি দশ হাজার সন্তান! এলিয়ে ছেড়েছি অশ্বমেধের নিকষ তেজীয়াল ঘোড়া, আমি ভগীরথের অপেক্ষায় রয়েছি আমৃত্যু,অবিচল। আমি তিন কদমে দান করেছি স্বর্গ,মর্ত্য,পাতাল "বলি"রুপে বলি দিয়েছি সৃষ্টির সব অহং, সত্য,ত্রেতা,দ্বাপর ঘুরে স্বর্ণমুকুটে স্থান দিয়েছি কল্কিকে আমি পাঁচ হাজার বৎসর ঘুরে চলেছি কঠোর দূর্বিপাকে। আমি পরশুরামের কুঠারে বিদীর্ণ করেছি পিতার আদেশ, অশ্বত্থামার মণি ছিনিয়েছি সুদর্শনের প্রহারে অপেক্ষায় রয়েছি শেষনাগের কালকূট নির্গমনের, আমি দৈবআদেশে জঠর খুঁজে চলেছি অবিরত- পুনঃপ্রতিষ্ঠার। 

বশ।

বিকলাঙ্গ চরিত্র,সঙ্গে দ্বিধাগ্রস্ত মন রক্তসিক্ত জনপদে ঠান্ডা চাঁদের আদর! জলজ ঘাতক অস্ত্র, সাথে-অষ্টাদশী ক্ষণ নিষ্প্রাণে তাই মসজিদে দেয় মিইয়ে যাওয়া চাদর। নিঃসঙ্গতায় উচ্ছ্বসিত-উদ্বেলিত মন্ত্র অনন্ত আভিজাত্যে ভাসে-কর্মফলের ভোগ, স্বপ্নময়ী হিল্লোলে তাই প্রতিবিম্বের তন্ত্র চুন-সুড়কির আস্তরনে গহীন-অসাড় রোগ। অসহ্যতার সীমাকীর্ণে নিরুদ্দেশী কাল ভেজা ঠোঁটের মৃত্যুচুক্তি-হলফনামায় সই শিরশিরানির অভিব্যক্তি-কন্দরে দেয় গাল ফেনিল ঢেউয়ে নিদ্রাসিক্তর পায় না কোনো থই! যমের সেনা,কদমতলে হাজিরা দেওয়া কাজ অপ্সরাদের যোগ-সাজসে মর্ত্য করে বশ, মুগুরনাচে ছৌ-শিল্পীর চৈত্র-ছাড়ের সাজ দেবরাজে তাই মিষ্টি হেসে ফেনায় দ্রাক্ষারস।

ঊজ্জ্বল।

ঊজ্জ্বল,আমি পারিনি তোমায় ছুঁতে বরং,নিভিয়ে দিয়েছি আলো! বুকের সীসার আবেশ তুঁতে রক্ত,ভেজেনি সেখানে কাল ও। ঊজ্জ্বল,বাবা বলতো আঙুল তুলে  যেন-নামটায় থাকো তুমি, আমি বিবর্ণ রোজ-ভুলে তোমায়, কবরে রেখেছে ভূমি! ঊজ্জ্বল,প্রতি সূঁচের ডগায় সত্য তাই,পরিনতি ওড়ে ঝড়ে, তোমার অহমিকা ভাসে কত্ত- মিছে,মাথা খুঁড়ে রোজ মরে।

ঈশিতা।

ঈশিতা,তোর হ্যাংলামি ভরা চোখ, তুই প্যাঁচ কষতে থাকিস শুধু মনে কখনো,আলসেমিতে উথলে ওঠা রোখ- আবার,ভাঁটায় ভেসেই উজান পরক্ষণে। শুনলাম,দিন গুজরানে তোর বড়োই বাধা? অজুহাতের বাহার চমকে ওঠে খুব, তুই ঢাক পিটিয়ে অবজ্ঞাতে- আনমনে তাই আধা নগণ্যতার পাথারে তাই  মারিস অতল ডুব!

কালীপূজোর ভয়াল রাতে

প্রথমেই আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।কারন আমার জীবনের *ঝুমুরের অভিজ্ঞতা* পড়ে আপনারা এত মতামত দিয়েছেন এবং অন্যান্য অভিজ্ঞতাগুলো লেখার জন্য অনুপ্রাণিত করেছেন,আমি সত্যিই এতোটা আশা করিনি।আগের অভিজ্ঞতায় আমি আমার বাড়ি এবং বাবার কার্যকলাপ সম্পর্কে একটু ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম যাতে আমি ভবিষ্যতে আবার আমার জীবনের কোনো অস্বাভাবিক বা অশরীরি ঘটনার কথা লিখলে আর নতুন করে সব কিছুর পুনরাবৃত্তি না করতে হয়।সেই কারনেই এই ঘটনাটা,যা এখন আমি লিখতে চলেছি,সেখানে আর সেসব ব্যাপারে আলোকপাত করছি না।এই ঘটনাটার সময়কাল ১৯৯৯ সাল।তখন স্কুলের গন্ডী পেরিয়ে আমি স্থানীয় আনন্দচন্দ্র কলেজে "ট্যাক্স প্র‍্যাক্টিস এন্ড প্রোসিডিওর" নিয়ে গ্র‍্যাচুয়েশন করছি।পিঠের দুটো পাখনাই  দিন-রাত বনবন করে ঘুরে চলেছে।স্কুলের কূয়ো ছেড়ে তখন আমি কলেজের মহাসাগরেরর ঢেউয়ে গা ভাসিয়ে দিব্যি আছি।নতুন নতুন প্রেম,ছাত্র পরিষদের হুমকি,কলেজ ক্যাম্পাসে ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ানশিপ,নিজস্ব লবিবাজি এসব নিয়ে বিন্দাস চড়ে বেড়াচ্ছি।বাইরে শীতের হাওয়া বইলেও মনের ভেতর সদাই বসন্ত। সেই সময়ে আমাদের পাড়ার,মানে পশ্চিম কংগ্রেস পাড়া সার্ফ মোড়ের সার্ব্বজ...

মলাট।

অন্ধকারের গাঁথনি উঠিয়ে  দূর্ভেদ্য করেছি মন, অগ্নিস্নানে অস্পৃশ্যতার বিকিয়েছিলাম ধর্ম! মোমবাতিটা জ্বালিয়ে হাতে ঘুরলাম অনেকক্ষণ, তবু,ফল পেলো না জাতিস্মরের পূর্ব-জীবন কর্ম। সুজাতার আনা পায়েস চেটে হনহনিয়ে হেঁটেছি বারবার, দেবতার দেমাকি পোশাকের মলাটে দেশলাই জ্বেলে চলেছি প্রতিক্ষণ! দৈবলোকে চৈত্রমাসে  রমরমিয়ে চলছে অবাধ ছাড়, আর হাড়-হাভাতে মর্ত্যবাসী তৃতীয় নয়ন বেচেই কামায় ধন।

বৃষ্টি।

দামাল বৃষ্টিটা ভিজিয়ে দিল মন শরীর,আত্মা থেকে শুরু করে সব আপাদমস্তক ঝরে পড়ে সারাক্ষণ, সূর্য প্রণামে ঘটা করে চলে স্তব। বৃষ্টিটা আমি পছন্দ করি খুব- ফোঁটা-ফোঁটা,মেঘে অঝোর ঝর্ণা বেশ, মাঠে-ঘাটে-পথে-ভেজা জলে দেহ ডুব- শিরশিরে সুখে বয়ে চলে সেই রেশ। বৃষ্টি কখনো কুমারীর মতো ঝরে রিনিরিনি সুরে ভালোবাসা করে দান, যৌবনে সে-ইঅঢেল কামনা করে অতৃপ্ততায় উজিয়ে তোলে যে বাণ। তবু,আমি ভিজি! স্নান সেরে ফিরি ঘরে তপ্ত শরীরে শীতলতা সারা বেলা, বৃষ্টি তবুও সোঁদা জমি বেছে পড়ে ইন্দ্র-বরুণ যৌথ প্রয়াসে খেলা!

কলির কেষ্ট।

কেষ্ট যদি থাকতো রে আজ- গোপীর সাথে করতো যে চ্যাট, ডিস্কো থেকে,হুক্কা বারে- আজব সেজে,লীলার বিরাজ কিংবা মলে,খসতো যে গ্যাঁট! কেষ্ট যদি মামীর সাথে  করতো প্রেম আজ-পার্কে গিয়ে, আমূল বাটার কিনেই খেতো চীজ-আইসক্রীম থাকতো পাতে, কিংবা লস্যি!মালাই দিয়ে। কেষ্ট যদি চোর-ডাকাতে কিংবা মামা,মারতো প্রাণে? চক্র যদি থাকতো হাতে? আইন-প্যাঁচেতে পুলিশ-হাতে যাবজ্জীবন,কিংবা ফাঁসী ঝুলতো,কেসে-ফাঁসতো জানে। কেষ্ট যদি কাপড়-জামা লুকিয়ে দিতো সব মেয়েদের, কিংবা ঢিলে-ভাঙ্গতো কলস! ইভটিজিং-এ মারতো হামা জীবনভর চলতো যে জের, হাজতবাসে বনতো অলস। (রচনাকাল ২০০১)     

বিশ্বাস।

বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর, বিশ্বাস অন্ধ হলেই ভাঙ্গবে চুরচুর। যাচাই করতে হবে- ভরসা করার আগে, তবেই হঠাৎ তোমায় পাবে না কেউ বাগে! নিজের কিংবা পর, বাছাবাছি ছেড়ে- পাল্লায় মাপবে আগে দূর্বলতা ঝেড়ে। নইলে- করাল গ্রাসে ফাঁসবে আজীবন, সবই মিশবে ধূলোয়, মান-সম্মান-ধন।

দাসখৎ।

দিনকাল খুব বাজে- টাকা ছাড়া কিছু নেই, মানুষ জন্তু সাজে ধর্মতে খোঁজে খেই। বাপ-মা-তে শুরু করে দেহটাও বেচে শেষ, তবু যদি মন ভরে! টাকা লাভে-সুখ বেশ। মানবতা? ইতিহাসে হারেমেতে দিনপাত, পশ্চাৎ রাখা বাঁশে- "মধ্যমা" বাছে হাত। বিকৃত ভোগ পথে দিনভর যাতায়াত, অনায়াস দাসখতে জীবনটা কুপোকাৎ।

আয়ুষ্মান।

আকাশভরা সূর্য ছিল অথৈ ঝিলিক মেরে প্রতিবিম্ব, উঁকি মারতো নক্ষত্র! কতো কবি সেই আঁতাতেই নির্ঘুম আশেপাশে, তবু-অলস আকাশ আড়মোড়াতে অনীহা ভাঙতো। ছায়াপথের হেঁটে চলা আলোকবর্ষের ধাঁধাঁয় বিস্মিত-নিটোল যুবতীর টোল পড়া উপচানো গাল বিতৃষ্ঞায়।। কালির আঁচড়ে অলিখিত গ্রহপথে অবিচল।তবুও- আকাশে সূর্য রথ ছোটাতো টগবগিয়ে! চরকিপথে অপেক্ষায় আপামর সভ্যতা কল্কি অবতার অবতরন করবেন অষ্টাদশ যুবক বেশে, সূর্যের লাগামছাড়া লাগামে বাজবে  হরতালের দুন্দুভি!আর- হাঁসফাঁসে ফেঁসে থাকা মানব জাতি দীর্ঘশ্বাসে ফেলবো স্বস্তির শ্বাস, আয়ুষ্মাণ!!!

বৃত্ত।

এসো আবার আলোর বৃত্তে ফিরি গড়ি আবার মৃত্যুহীণ প্রাণ, লঙ্ঘে আসি চরম চড়াই গিরি হঠাই দূরে মৃতের শীতল ঘ্রাণ। এসো আবার প্রেমের বাগান সাজি সৃষ্টি হোক অমোঘ অটল কৃষ্টি, হারাম নয়,হালালেতেই রাজী বর্ষে দিই অমৃতধারার বৃষ্টি। এসো সবাই হাতকে করি শক্ত চোয়াল কঠিন, দৃষ্টি ভবিষ্যত,  মিথ্যে না যায় শ্রমের নোনা রক্ত জ্বালিয়ে ভাসাও অতীতের দাসখত। এসো এবার বর্তমানে ফিরি গড়তে হবেই সবুজ গ্রহ খানি, ফিরতে হবেই পুরোনো ধানসিঁড়ি চলো সবাই ফিরিয়ে সেটাই আনি।

অনির্বাণ।

আজ নতুন বছরে  জানাই তোমারে প্রীতি ও ভালোবাসা, ভালো থেকো,তবে ভালো রেখো সবে রইবে এটাই আশা। দুর্দিন বড় সাহসেতে জড়ো বাঁচো ও বাঁচিয়ে রাখো, মতি স্থির করো ঘরে জড়োসড়ো মঙ্গলদীপ আঁকো। বিপদের ঘ্রাণ? পাবে পরিত্রাণ অমোঘ বিপদ থেকে, বাঁচাবে যে প্রাণ আশা অনির্বাণ! নতুন শপথ রেখে।

পোড়া কপাল।

রাইত্যের বেলা সেদিন আমি ফিরতেছিলাম বাড়ি, মোটর সাইকেল ফটফটায়ে,বাজার নিয়্যা কাঁড়ি। হঠাৎ দেখি,রাস্তাপাশে দাঁড়ায় আছে কে র‍্যা? মিষ্টিসুরে কয় সে আমায়,"একতু দিবেন ছেড়ে?" হেই শালা রে,মাইয়্যা নাকি? বুক করে ধুক-পুক, আইজকে হালায় আমার আছে এত্তগুলান সুখ? কোথায় গেলি বন্ধুগুলান,ইশ রে,পোড়া রাইত, দিনের বেলা হইলে সবাই জ্বইল্যা হইতো কাইৎ। এই মওকা ছাড়ান যায়? হাইস্যা কইলাম তাই- কই যাইবেন? আহেন আহেন,একলগেতে যাই। গতিবেগ কুড়ির উপর,উঠাই না আর ভুইল্যে ভাবত্যাছি আর সুখ বেশী নাই,আইলাম প্রায় চইল্যে! আরিশ্শালা,কপাল আছে! হেইডা দেহি চেনা ছ্যামড়া দুইহান খাড়ায় আছে,সুযোগ নিবে কে না? দাঁড়ায় পাশে ডাইক্যা কইলাম,শুন রে ভাই,শুন ঢ্যামনাদুইডা হাসে দেহো!মুখ না কইর‍্যা চুন। উলডা হের‍্যা আমাকে কয়,কি যে করো ভাই, টকাই কাকারে নিয়্যা ঘুরো,তোমার কি কাম নাই? মানে?? আমি বেবাক হাঁদা,অন্ধকারের ফলে মাইয়্যা ভাইবে ফাঁইস্যা গেছি টকাইকাকার ছলে। হেই শালা তো যাত্রাপালায় মাইয়্যা সাজে রোজ, হায় রে হায়,আমার ঘাড়েই চাপলো এমন বোঝ? কি আর করি? বেবাক হাসে,আমিও হাসি তাই, আমার মতোন এমন কপাল করিস না রে ভাই।  

হাতছানি।

তোমায় দিয়েছিলাম আকাশ তুমি দিলে অন্ধকূপ, তোমায় দিয়েছিলাম বাতাস তুমি দিলে আমায় যূপ। তোমার ভালোবাসায় ধনী আমি খুঁজেছিলাম সুখ, ভেবেছিলাম পরশমণি তুমি ঝাঁপিয়ে দিলে দুখ। তোমার অভিশাপের দাবী আমার হচ্ছে পুরো রোজ, খাচ্ছি পঙ্কলেতে খাবি ভুলেছি শক্ত ডাঙার খোঁজ। তবু তোমায় ভালোবাসি তবুও তোমায় শুধু চাই, বারবার ফিরেও যেন আসি আজকে যতোই দূরে যাই।

বাসন্তী।

দুচোখে ভাসছে মেঘ,চুলে মন্দারমণির ঢেউ তোমার পলাশরাঙা ঠোঁটে- হয়তো, আবীর মাখে কেউ। দেহে বাঁধনভাঙা বাণ,বুকে উতাল ঝোড়ো হাওয়া তোমার কোমল-পেলব গ্রীবা, হয়নি আজও, গা-য়ে সওয়া! মলের রিনিঝিনি বহে- ক্রুর কালবোশেখীর রাগে কিতাব ভাসে রুপের ধারায়; মনের আগুন? লুকোয় ফাগে!

হায় বাঙালী।

খরাজদাদা গান লিখেছে "হায় বাঙালী হায়" বাঙালীর সেই বাঙালীয়ানা,কিছুই নাকি নাই। কিন্তু দাদা ভুল মেরেছে-আছে নিদান খাঁটি, সর্বকালের সেরা দাওয়াই,পরের পিছে কাঠি! বাকী সবই গেছে ভুলে,দেশপ্রেম বা রান্না জিতে গেছে শতকসেরা কুমীররুপী কান্না! বাঙালী এখন রাজনীতিতেও দফা-রফা শেষ, বাঘাযতীনের উত্তরসূরী? আমরা খাঁটি মেষ। পরের ঘর বা পরের স্ত্রী,কিংবা কালো টাকা বাংলা এখন জিন্দাবাদে,সোনার জলে আঁকা। "শ্রী"-এর এখন ছড়াছড়ি,পথে-ঘাটে-ধূলোয়, থালা-বাটি বাজিয়ে ছাই,ফেলছে ভাঙা কুলোয়! হায় বাঙালী!নাম রেখেছো,মাইরি তুমি সেরা! সেই কারনেই আজও তুমি সম্মানেতে ঘেরা।।

ভবিষ্যৎ।

মেয়েটি আজ আর মা হতে চায় না! এই মা হওয়ার জন্য ছিলো তার কত্ত বায়না, কিন্তু, আজ তার মন আর সায় দেয় না। গর্ভে তার বাড়ছে একরত্তি নিঃশ্বাস, তবু, গর্ভধারিনীর নেই ছিঁটেফোঁটা বিশ্বাস। কারন, পৃথিবীতে এখন মৃত্যুপুরীর ফিসফাস! মহামারীর আগ্রাসে ধুঁকছে তামাম সৃষ্টি, ঊর্ণনাভের জালে আটকে দেবতার দৃষ্টি! আর, আমাদের চোখে বইছে লোভের বৃষ্টি। মেয়েটি আজ মায়েদের পথে বাড়ছে, তার মতাদর্শ সব-চাবুকে পিটিয়ে মারছে। তবু, সৃষ্টির দাবী কঠিন, স্থিতধী! মূল্যবোধটা কাড়ছে। মেয়েটির গর্ভে কাঁদছে ভবিষ্যৎ, আমরা অপেক্ষায় রয়েছি স্থানুবৎ! উল্লাশে- ধ্বংস ধাইছে-চিরন্তন, সৎ!!

বিলাত ফ্যারত।

আইজকালকার মাইনসি গুলা দ্যামাক, ভীষন-ভাব! "ছাই ফেলনের ভাংগা কুলা", স্ট্র দিয়া খায় ডাব। ন্যাপাল-ভুটান-বাংলাদ্যাশে ঘুইরা আইস্যা কয়, বিদেশ ঘুইরা আসলাম শ্যাষে ট্যাহা কইরা ক্ষয়। তার উপরে ভোদাই কেমন হালায়,ঘরে যাও। রোগ লইয়া ফিরসে যেমন ঘুইরা বেড়ায় তাও? ব্যাতায় পিছন লাল কইরা শান্তি পাইতাম তবে, বিলাত ফেরত সব ফইড়া পামু যে হাতে কবে?

সভ্যতার অভিশাপ।

করোনা,কেড়ো না আর সৃষ্টির প্রাণ, অগোছালো সভ্যতা,লুটে যাওয়া ত্রাণ। ভ্রূণ থেকে ভুঁইফোঁড়,হোক সে বিলেতি লাশ; তোমার আগ্রাসন-কঠোর মৃত্যু গ্রাস! হাহাকার,মহামারী,কালোবাজারীর ছায়া, তোমার শক্তিশালী,নিকষ-করাল-কায়া! করোনা,বেড়ো না তুমি-কলির সন্ধ্যেবেলা, দেখো--পথ শুনশান! অবসাদ করে খেলা। অশুভ আশঙ্কাতে ত্রাহি-ত্রাহি চারপাশ অটল বদ্ধ ঘরে- জনে জনে হাঁসফাঁস। খাওয়া আজ আছে,কাল সেটাও হবে যে শেষ, তোমার যাওয়ার পরেও রয়ে যাবে সেই রেশ। করোনা,তুমি কি জানো- তোমার জন্মদাতা আমাদেরই একজন! হায় রে পরিত্রাতা! সভ্যতা অসভ্য,শুধুই যে প্রাণ চায়, তাইতো সদাই সে ধ্বংসের দিকে ধায়। অরণ্য? বেবাক ফাঁকা। জীবকুল? মার-কাট আমাজনে আগুন তো সেটারই গোপন সাঁট। পরমাণু,আণবিক,জীবাণু,মৃত্যুবাণ আনুষঙ্গিক সবই,কোরাসে শেষের গান। মানুষ তো বোঝে সব,তবুও অবুঝ অতি, গোবর হাসে তো তাই,ঘুঁটে পুড়ে কার ক্ষতি?? করোনা,এসেছো তুমি,হয়তো এটাই ভালো! শাপেতে হয়তো বর-এইবেলা হয়ে গেলো। এবারেও সচেতন-না হই যদি বা, সবে- সভ্যতা কোন ছার,পৃথিবী ধ্বংস হবে। মনকে শুধিয়ে দেখো-সবুজ প্রকৃতি চাও না কি যান্ত্রিক সুখে আত্মা বিকিয়ে দাও? এখনই তো শেষ দিন, লড়াই, বা মেনে হার নতুন সকাল দেখো ক...

পুরুষকার।

মোমবাতি জ্বলে চলে, জ্বলে-ধর্ষিতার কামড়ে নেওয়া উলঙ্গ লাশ! কখনো রাস্তার অন্ধকারে,গ্রামের আলে,জলে সেই ভোগ্যদের ছড়ায় দীর্ঘশ্বাস। নেতা,অভিনেতা,মন্ত্রী,আমলা শ্বাপদ-সুযোগে ঝাঁপায় সব বীরের দল, সবুজ গান্ধী বা বারুদে মিটিয়ে মামলা জনগণের টাকায় আয়েস, জমানো ছল। পাড়ার চায়ের দোকান থেকে পাঁচতারা, সবখানে ভোগ্য-নারী,লেলিহান লোভ, শিশ্নপ্রধান পুরুষ কামাতুর দৃষ্টি হানে তবু বাড়ে না পুরুষ-প্রধান সমাজের ক্ষোভ। চাবুকের কষাঘাতে চিরে দিতে হয় ভদ্রতার ছদ্মজাল,পরিচয় আর বেশ, তবু যদি পুরুষকারের উদয় হয়, যদি- জেগে ওঠে,বেঁচে ওঠে মানবতার রেশ।

বাবা কতোদিন দেখিনি তোমায়।

মন কি পড়ানো যায়? মনের গভীরের কাদাকাদা মনটা, সেটা কি শুকোনো যায় বাস্তবের পরাকাষ্ঠায়? জানি নি কখনো,বুঝিনি,বোঝার চেষ্টাও করিনি-ভয়ে! সবসময় এড়িয়ে গিয়েছি সভয়ে,সযত্নে,তাড়াহুড়োয়। কিন্তু  ভুলেও ভুলে থাকতে পারি না। যন্ত্রণাক্লিষ্ট মায়ের মুখটির শীতল হয়ে যাওয়ার সেই ১৯৯৭ সালের ২৩ শে এপ্রিল! আজো কুরে-কুরে খায় সদ্য উচ্চ মাধ্যমিক দেওয়া  সেই-নরম মনটা! মিথ্যে স্তোকবাক্যে মায়ের অবিশ্বাসী দৃষ্টি! মা-কে বলেছিলাম,"তুমি সুস্থ হয়ে যাবে"। তারপর এক ছেলের এক আপনভোলা বাবাকে নিয়ে সব ভুলে যাওয়ার লড়াই।কিন্তু, সেই বাবাও একদিন একমাত্র ছেলেটিকেও ভুলে গেল? সেই লৌহকঠিন মানসিকতার ব্যক্তি-সেও হেরে গেল তিন মাসের লড়াইয়ে? ২০১৭ সালের ৩১শে ডিসেম্বার,রাত ১২-০২ মিনিট! ইংরাজী নতুন বছর।চারদিকে আতসবাজীর রোশনাই। যুবসমাজের চিলচীৎকার,মদের গন্ধ বাতাসে-- আমার মনে তখন সেই আদর্শ পুরুষের ইতিহাস। সামনে শায়িত সকাল থেকে মৃত্যুর সাথে লড়ে যাওয়া মানুষটির শান্ত অবয়ব,চারদিকে মেশিন,নল। কি বলি তোমাকে নিয়ে বাবা? ইতিহাস কি কখনো শেষ হয়? সেতো চলবেই নিরন্তর। মন সেদিন হারিয়ে ফেলেছিল চাবি,জেনে-বুঝেই। আজো হারিয়ে রেখেছি চাবি, চাইনা এই অব্যক্ত মনের ভ...

অনাথ আমি।

নতুন বছরের প্রথম দিন- "অভিশাপ "হয়ে রবে, তুমি এইদিন -হয়ে প্রাণহীণ নিথর হয়েছো, শবে! অনাথ করেছো,বেঁচে আছি "নামে" তোমার ছায়াটি খুঁজে, নোনা জল আজো, গাল বেয়ে নামে আনমনে, অবুঝে। সব স্মৃতিগুলো, দিন-রাত তাড়া- করে চলে- অবিরত, তুমি চলে গেছো, আমি দিশেহারা মনের গভীরে ক্ষত! মা আর তুমি একসাথে নাকি? আছো কি গভীর সুখে? তুমি বাবা-দেখো,আমি কেন বাকি??? অনাথ, রয়েছি-- দুখে।

কোলহারা।

জীবন গেছে থমকে যেন- বারুদ ছড়ায় গন্ধ, তবুও ওরা জাগছে কেন? মানবাধিকার অন্ধ! তিনরঙা ওই পতাকা গায়ে কফিন হয়ে বদ্ধ, রত্নগর্ভা ভারত মা-য়ে কোলহারা হয় সদ্য।

অভিশাপ।

আমার জীবনের আক্ষেপ হয়ে বেঁচো না, অন্যের জীবনে ভালোবাসা করে রাখো। তোমার সব দীর্ঘশ্বাস -আমার,সব বঞ্চনা, অভিশাপ দিলাম-সারাজীবন এভাবেই সুখে থাকো।

মরুদ্যান।

জীবন যখন "সাহারা" হয়, মরুদ্যান-ও ফক্কা। মনের আধার-নিঃস্ব ও ক্ষয়, ভালোবাসার অক্কা!

সব ঝুট হ্যায়।

যত ভাবি ভুলে যাব ততোই জড়িয়ে পড়ি, সব হারালাম,কি আর পাব জীবন বেঁচেই মরি।     

বৈপ্লবিক।

হিংসা,লোভ আর কাম! তিনটে মহৎ গুণ, পায়ে না পড়ুক ঘাম- মাথাতে কষাও তূণ। হিঁচড়ে মাটিতে ফেলে- শরীরে,মাড়াও সিঁড়ি! "উন্নতি" পেয়ে গেলে লঙ্ঘে "আজ"-এর গিরি। " কাল"? সেতো পিছে ছিলো কিংবা অদূর দূরে, আজ,কে কি যে দিলো- চেটে নাও কুরে কুরে।

গুরুদেব।

চরণচিহ্ন রেখে গেছ পিছে এখনো রয়েছে তাজা, তোমার স্বপ্ন হয়নি তো মিছে- ভেবে গিয়েছিলে যা যা। জীবন আজকে যেই খাতে বয় সবই তো তোমারই দান, তুমি গুরুদেব,শিখিয়েছো জয় শুদ্ধ করেছো প্রাণ। তোমার নীতিতে বেঁধেছি কোমর দশের জন্য বাঁচি, তোমার আশীষে জিতেছি সমর- এখনো জীবিত আছি। (আমার জীবনে যে শিক্ষকের প্রভাব সবথেকে বেশী,সেই পিতৃতুল্য শিক্ষক জলপাইগুড়ি জিলা স্কুলের ঁমহাদেব পাল, যাঁকে আমি আমৃত্যু মনে রাখবো,তাঁর এবং আমার সব শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে নিবেদিত)

হার-জিত।

ভুলের থেকে শিক্ষা নিতে  জীবন শেখায় রোজ, মন তবুও "হার"-কে জিতে- চালায় মনের খোঁজ।

চরিত্র।

তোকে ভুলতে "প্রেম" খেলেছি হেরেছি সকল চালে, তোকে ভুলতেই "মন" ফেলেছি বুঝেছি "নিয়ম" হালে। তুই যে আছিস সুখের ঘেরাতে- আমি বেঁচে আছি কষ্টে, তোর স্মৃতি থেকে মুখটা ফেরাতে চরিত্র নাচে নষ্টে!

মুখোস।

সুখের পাখি উড়িয়ে দিলাম রইলো পড়ে খাঁচা- মনের আবেশ মনেই "নিলাম", মুখোস পরে বাঁচা!

কাঁচের স্বর্গ।

তোমার আগুনে মৃত যে"সত্য" স্বপ্নের জাল ছিঁড়ে, ছদ্ম প্রেম,ঘৃণা নেপথ্য- আমৃত্যু কাল ঘিরে!

ভালোবাসা।

তোমার নিপুণ অভিনয়, আমি ভেবেছি যে ভালোবাসা! তাই বুক জুড়ে অবক্ষয়- আর-নিথর সকল আশা।

বন্ধু।

বন্ধুত্বের আলাদা কোনো দিন লাগে নাকি? এটা তো অবিচ্ছেদ্য,চিরন্তন। রক্তের খুচখাচ পাতা-ঘাসের আত্মীয়তার বিদ্বেষ ঝেঁটিয়ে এতো ধমনীতে বয়ে চলা -শিলাজিতের ঝাঁঝ! বন্ধুত্ব স্বার্থর প্রাচীর উজিয়ে বিন্যাসিত  অপ্রাসঙ্গিক প্রাসঙ্গিকতায়,শৈশব থেকে চিতায়। ভালো থেকো,  ভালো থেকো বন্ধু,ভালো রেখো লাল রক্তের সবুজ নির্যাস। অহমিকার আশ্বাস!

প্রতীক্ষা।

তোমার হাতে হাত ডুবিয়ে মনে ভেজানো মন, প্রেম জড়ানো প্রঃশ্বাসে -দিন কাটতো; নিমেষ ক্ষণ! এখন শুধু একলা পড়ে, নোন্তা জলের চোখ! তবুও আশায়-বাঁচার তাগিদ হারিয়ে ফেরার শোক।

সরস্বতী বন্দনা।

বাগ্ দেবী আর করবে কি যে- ওঁনার পূজোয় বাজছে ডি.জে। হাঁস বেচারা হাঁসফাঁসেতে- যায় পালিয়ে স্টেট বাসেতে। স্কচ-হুইস্কির রম-রমাতে ছাত্তর যায় ফান্ড কামাতে!

প্রথম জন্মদিন।

আজ প্রথম উপলব্ধি করছি আমার জন্মদিনটা! জীবনের শুক্রানু থেকে এই পাঁচ ফুট'ন ইঞ্চি শরীরটা  মানুষ হওয়ার চেষ্টা করেছিল তোমার কায়ক্লেশে। অঝোর ভালবাসায় নিষিক্ত করোনি কখনো- অকপট দায়িত্ব,নির্ঝর কাঠিন্য ৯৭ সালে মা-কে হারানোর সময় থেকে।বুঝতে দাওনি তোমার একাকীত্ব। চক্রব্যূহের আবর্তে রেখেছিলে আমায় সুরক্ষিত,হামেশা। আজ আমি ব্যূহচ্যূত!কক্ষপথভ্রষ্ট হয়ে দিশাহীণ নিরংকুশ। প্রথম আজ স্নান করে খুঁজবো না তোমার পা-দুটো। কালীবাড়ি,লোকনাথ মন্দিরের সন্দেশ গুছোনো থাকবে না তোমার দু-খানি,আলাদা। রাতে চাঁদনীর বিরিয়ানী বা ভর্তা আজ থেকে আর আসবে না। তুমি আমার "বাবা" শব্দটা কেড়ে নিলে আজীবন। চোখের নোনতা জলে আজ ভিজুক তোমার পবিত্র পা।আমাকে পবিত্র করো তোমার  ছোঁয়ায়। আমাকে আবৃত করো তোমার আশীর্বাদে- বাবা!

উন্নয়ন।

ঘেউ ঘেউ কোরো নাগো- কুঁই- কুঁই করো, মাগ্যির পিছে ভাগো- লোক করে জড়ো। চপ থেকে ঢপ কলে- লোক নেবে রোজ, সংসদে ঢলে ঢলে- চলে ভুঁড়িভোজ!

ভোল বদল।

আজকাল তো সবাই কবি- আগুন সবার লেখায়, ঠিক মনে হয়-কুচকুচে কাক ভোল ভুলেছে-কেকায়!

শেষ লেখা।

লেখা চুরি যায় বলে? শুনে হই হতবাক, বোন বলে "হয়-ছলে" মনে ভাবি, তবে থাক। লিখবো না আজ থেকে এই হল পরিনাম, বাঙালীরা ঠেকে শেখে- প্রমাণিত অবিরাম। চুরিটা করছে যারা শুনে রাখ- সাচ্চা, তোরা হলি বাছা-ঝাড়া "বরাহের বাচ্চা!"

মা আসছে।

ভোরের প্রভাতী গানে দিন হয় শুরু, শিউলি ডাকছে ঘ্রাণে- মন উড়ুউড়ু। পেঁজামেঘে আনমনা আকাশের মন, দিন বাকি হাতে গোণা- কাটে না যে ক্ষণ। আগমনী ভাসছে বাতাসেরই সুরে, প্রকৃতিও হাসছে- ভুবনটা জুড়ে। মায়ের ভিড়বে তরী পৃথিবীর ঘাটে, "দুগগা -দুগগা"স্মরি- দিন ক'টা কাটে!

রাজ।

মনে পড়ে রুবি রায়? কতো গানে-কবিতায়- ক্লিশে হয়ে বেঁচে আছ এখনো! আজ তাই শুনি, হায়! নকলের দুনিয়ায় কপচানো বুলি ওই,শেখানো। যখন কিশোরী ছিলে, কটাক্ষ ছুঁড়ে দিলে! সেটাই তো মূলধন-আজকে। বাকিরা ধুঁকছে,তবু- আমিও তো জবুথবু, চেপে আছি তবু সেই "রাজ" কে।

আগমনী।

কাশ ঢেউয়ে মন আহ্লাদিত- শিউলি সুবাস পাল্লা দিত। শিশির ভেজা নরম ঘাসে মন হারাতো,পূজোর মাসে! নতুন কাপড়-নতুন জামা নিত্য নতুন বায়না-নামা। ঢাকের বোলের মাতাল সুরে পূজোর নেশা বাতাস জুড়ে। এখন কোথায় কাশের জটা, শিউলি ফুল! দেখছো কটা? শিশির? এখন কজন চেনে? গংগা জল-ও বাজারে কেনে। সারা বছর অন্তরজালে- ঘর ভরানো হরেক মালে। ঢাকের বোলও যন্ত্র বাজে, মজলিশে তা লাগে কাজে। পূজো এখন নিছক ছুটি, কয়েকদিনের রসের জুটি। মদ-মাংসের মিলন মেলা, জুয়ার ছকে ভাগ্য খেলা। মনের আবেগ?সেগুড়ে বালি, লাল তারিখে শুকনো কালি!

হারেম।

রাজতন্ত্রের হাজতঘরে গুমরে মরে রাজকাহিনী, সৈন্য প্রসব!হারেম করে- জারজ ঠাসা "শব"বাহিনী। ধরমগুরুর আশকারাতে বিকোয় দেহ ঠাকুরঘরে, সতীর পদে পা বাড়াতে- উদোম দেহে কামড় পড়ে!

আঁতেল কবি।

গভীর জলের আধার রে তোর তবুও কেন ভেসেই থাকিস? মনের পরত নিকষ-অঘোর তাও কেন তুই চাদর পাতিস? রং-বেরংগের গোলাম সেজে বিকিয়ে গেলি বিবির কাছে! খেলিয়ে তোকে ছাড়বে লেজে সেই হুঁশ কি মজুত আছে?  রাহু চাটা সূর্য যেমন তুই তেমনি গ্রস্ত হবি, দেখিস তখন লাগবে কেমন- বুঝলি রে ভাই, আঁতেল কবি?

পদ্য।

আমি তোমার মননে লিখছি শুধু,তোমায় জপবো বলে! আমি,শব্দ সাজানো শিখছি হাওয়ায়,নিথর প্রদীপ দোলে। আমি হিংসা-কবলে ধ্বস্ত হয়ে,নিলামে উঠেছি সদ্য! আমি,নাম কিনে নিয়ে মস্ত এলাম,বানাতে প্রেমের পদ্য।

ক্ষয়।

বন্ধু যখন ফাটল ধরায়-  মান-অভিমান লুটায় মনে, দু-চোখ গলে দু:খ ঝরায় গ্রানাইট চাপা-বুকের কোনে। বন্ধু যখন ভুল বুঝে রাগ উগরে ফেলে-মুখের গায়ে চুপ করে মন,ফোটায় বিরাগ মান-অভিমান? নীরব সায়ে! বন্ধু যখন হাত ছেড়ে যায়  একলা করে,মাঝপথেতে- ঝাপসা নজর,ছাঁট লাগে গা-য় শুকনো আবেগ-ক্ষয়,ক্ষতেতে।

দুগগা দুগগা।

মা আসছে পরের মাসে, মনখানি তাই আশায় হাসে। মন্দ-খলের নিকেশ হবে- নতুন সূরজ উঠবে তবে! কাশবনে তাই দোল উঠেছে ঢাকের মুখে বোল ফুটেছে। শিউলি ভোরে সুবাস ছাড়ে, নীল মেঘেতে নজর কাড়ে! দুগ্গা  নামে মন নাচে রোজ বাঁচার রসদ-খুশীরই খোঁজ।

ধর্ম ফানুস।

জ্বলছে আগুন পুড়ছে মানুষ উড়ছে তব-ু ধর্ম ফানুস, মগজ ধোলাই শিষ্যগণের- সুখ শীৎকার অল্পক্ষণের। ব্যবসা চলে ধর্ম আড়ে রক্ত বাড়ে শুকনো হাড়ে। নীল ছবিতে মন্ত্রফুঁকে  কাঁপন ধরায় কোমল বুকে! রাম-রহিমের  গোপন ঘরে মিছরি বিকোয় মুড়ির দরে।

ভদ্দর সমাজ।

হায় রে শিখন্ডী সমাজ- তুমি ধরষনে পাও লাজ? আজ মানবতাবোধ- শব, অনাথ- কুশ ও লব! শালা,সুরাপান করে ঘরে প্রবচন ভাসে ঝড়ে! আর,লাশ ভেসে থাকা পথে- প্রতিমা লুটায় ক্ষতে।  (কোচবিহারের পথে পড়ে থেকে প্রাণ ত্যাগ করা আহত প্রতিমাদেবীর খবরটা দেখে নিজেদের মানবতাকে খিস্তি দিতে ইচ্ছে হয়)

পঞ্চভূত।

শবেই মিলবে সব- ইন্দ্রিয় থেকে সুখ, পচন ধরবে অনুভূতিতে ঘুণ ঝড়া-ধূলো বুক। শান্তিচুল্লী শীতঘুমে চিতা জাগে-কবরে, আলতার ছাপে শীতলতা চুমে ঘর পাতে শবরে।

রক্তবীজ।

রক্তবীজের আমদানিতে গণদেবতার অন্ত, বারাসাত বা কামদুনিতে লালসা ভেজা দন্ত! শিল্পপতি,রানীর নাতি- তেল দিয়েছে ঝেঁটে; ভাঁড়ার ঘেঁটে -রক্তবাতি জারজ ধরে পেটে।

ঝুমুরের অভিজ্ঞতা।

আমার নাম অনির্বাণ ব্যানার্জী।আমি জলপাইগুড়িতে থাকি।ছোট্ট থেকেই দেখে এসেছি আমার বাবা এবং বাড়ি  সম্পর্কে জলপাইগুড়ি এবং জলপাইগুড়ির বাইরেরও বহু লোক,যারা অবশ্যই আমাদের পরিচিত,তারা অনেক কিছুই জানেন যা সাধারণ জানা এবং বোধ বুদ্ধির বাইরে।ভারতের এবং বাংলার অনেক বিখ্যাত মনিষীদের সাথে বাবার ছিল জানাশোনা এবং হার্দিক সম্পর্ক। বোধ হওয়া অবধি দেখে এসেছি আমাদের বাড়িতে বহু বিখ্যাত তান্ত্রিকদের উপস্থিতি এবং সেসব ক্ষেত্রে আমার উপস্থিতিতে সব সময়েই নিষেধাজ্ঞা ছিল,শুধু সারারাত ব্যাপী আলোচনা এবং রোমাঞ্চকর সব অভিজ্ঞতা শোনার ছাড় ছিল,যেগুলো শোনার জন্য আমি সেইসব ব্যক্তিদের আসবার অপেক্ষায় দিনের পর দিন হাঁ করে থাকতাম।আমি জলপাইগুড়ির এমনও অনেক স্বনামধন্য ডাক্তার এবং ব্যক্তিদের চিনি,যাঁরা দিনের পর দিন আমাদের বাড়িতে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতেন এবং অনেক সময় সেই ডাক্তারদের পাওয়ার জন্য আমাদের বাড়ির বাইরেও রোগীদের লম্বা লাইন পড়ে যেত।প্রসঙ্গতঃ আমার বাবাও  স্বাস্থ দপ্তরেই চাকরী করতেন এবং বাবার ১৬ বছর বয়েস থেকেই বাবা এসব অতিপ্রাকৃতবাদ এবং বনৌষধি নিয়ে পাগল ছিলেন এবং সারা জীবনে বাবার নিজেরই মোট ১০-১১ জন গুরু ছিলেন।বা...