বাবা কতোদিন দেখিনি তোমায়।
মন কি পড়ানো যায়?
মনের গভীরের কাদাকাদা মনটা,
সেটা কি শুকোনো যায় বাস্তবের পরাকাষ্ঠায়?
জানি নি কখনো,বুঝিনি,বোঝার চেষ্টাও করিনি-ভয়ে!
সবসময় এড়িয়ে গিয়েছি সভয়ে,সযত্নে,তাড়াহুড়োয়।
কিন্তু ভুলেও ভুলে থাকতে পারি না।
যন্ত্রণাক্লিষ্ট মায়ের মুখটির শীতল হয়ে যাওয়ার সেই
১৯৯৭ সালের ২৩ শে এপ্রিল!
আজো কুরে-কুরে খায় সদ্য উচ্চ মাধ্যমিক দেওয়া
সেই-নরম মনটা!
মিথ্যে স্তোকবাক্যে মায়ের অবিশ্বাসী দৃষ্টি!
মা-কে বলেছিলাম,"তুমি সুস্থ হয়ে যাবে"।
তারপর এক ছেলের এক আপনভোলা বাবাকে নিয়ে সব ভুলে যাওয়ার লড়াই।কিন্তু,
সেই বাবাও একদিন একমাত্র ছেলেটিকেও ভুলে গেল?
সেই লৌহকঠিন মানসিকতার ব্যক্তি-সেও হেরে গেল তিন মাসের লড়াইয়ে?
২০১৭ সালের ৩১শে ডিসেম্বার,রাত ১২-০২ মিনিট!
ইংরাজী নতুন বছর।চারদিকে আতসবাজীর রোশনাই।
যুবসমাজের চিলচীৎকার,মদের গন্ধ বাতাসে--
আমার মনে তখন সেই আদর্শ পুরুষের ইতিহাস।
সামনে শায়িত সকাল থেকে মৃত্যুর সাথে লড়ে যাওয়া মানুষটির শান্ত অবয়ব,চারদিকে মেশিন,নল।
কি বলি তোমাকে নিয়ে বাবা?
ইতিহাস কি কখনো শেষ হয়? সেতো চলবেই নিরন্তর।
মন সেদিন হারিয়ে ফেলেছিল চাবি,জেনে-বুঝেই।
আজো হারিয়ে রেখেছি চাবি,
চাইনা এই অব্যক্ত মনের ভেজা দিকটি উন্মোচন হোক।
চাই না আমি আমার সোঁদা মনটির খোলনলচে পাল্টাক।
তবু ভয় পাই বছর শেষের দিনটাকে।
বুক চীৎকার করে কেঁদে ওঠে অজান্তেই।
বোবা মন আর্তনাদ করে বলে-
"বাবা কতোদিন দেখিনি তোমায়।"
"বাবা কতোদিন দেখিনি-"
Comments
Post a Comment