Posts

Showing posts from 2015

সুখ

­ নিকষ দু:খভরা আকাশ কোটর মাঝে- সাদা বক ভেসে চলে আড়াআড়ি, সুখ আজ ফল্গুতে;দেহটা লুকোয় লাজে- অনাবিল মোহনাতে তাড়াতাড়ি. অশেষ স্রোতের ঢেউয়ে মনভরা বিষগাছে একান্ত অগোচরে দিনপাত, আমৃত্যু অনশন-আত্মাকে আনে কাছে দু:সহ স্বপ্নেতে সারারাত. বাতিল খেজুর রসে-মোহ জাগে দেহটাতে, দুর্বার অপ্রেমে কুপোকাত! ভনভনে মিছিলেতে লোকজন বাঁচে আঁতে- অযাচিত জায়গাতে পড়ে হাত. স্থাবর যা আছে পাশে-তাই নিয়ে মাতামাতি সুখ-স্নানে আমৃত্যু দরবার, দুইদিন অম্লতা,অনুযোগ,হাতাহাতি- অজুহাত- স্বার্থতে লড়বার. উড়ুক্কু চাহিদাতে নির্মম কষাঘাত, তুষচাপা হৃদয়েতে আর্তি, করতালি-করজোরে-অসহ্য প্রাণপাত জীবনটা-অযাচিত,বাড়তি!

চরাচর

চরাচর অকূল এ চরাচর- গাছপালা-নদী, পথ-ঘাট-বাড়ি-ঘর থাকলো বা,যদি! দেহখানি থাকবে না- হয়ে যাবে ধুলি মনে কেউ রাখবে না- সবে যাবে ভুলি, থেকে যাবে স-ব কিছু ব্যক্তিটি বাদে, ডাকবে না কেউ পিছু মন তবু কাঁদে, থেকে যাবে প্রান্তর- ফুল-ফল-পাখি, ভারী হবে অন্তর বারি ভরা আঁখি! থেকে যাবে বিশ্বাস- প্রেম-প্রীতি-দায় নিশ্চলে নি:শ্বাস বাতাসেতে ছায়! থেকে যাবে পরিজন প্রেমঘেরা পত্র, শোক হবে অনুক্ষণ- দিন-কয় মাত্র. থেকে যাবে মন তবু- প্রিয়জন মাঝেতে যদি কেউ-ভাবে কভু ম্রিয়মান সাঁঝেতে !!!

জোকার

জোকার  সংসারের এই সংগ্রামেতে  উঠছে নাভিশ্বাস, জীবন এখন যন্ত্রসম- ঝুলছে গলায় ফাঁস। ব্যবসায়ী বা চাকরিজীবি, তোমরা তবু-মানুষ, আমরা তো ভাই পেট চালাতে- ওড়াই হাসির ফানুস! নাম তোমাদের হোক না যেটাই নেই অধিকার-টোকার, আমাদের তো একটাই নাম সার্কাসেরই জোকার। তোমরা যখন হাততালি দাও, মন ভরে যায় হরষে- চোখ ভিজে যায়-হয়ত তখন  ভালবাসার স্পর্শে ! কিন্তু,মোদের কাঁদতে মানা  সেটাই তো কেউ চান না,  সুখেও হাসি-দুখেও হাসি- হাসিই মোদের কান্না ! তোমাদেরই মন ভরাতে  এই পথেতে আসা, রং পরতে মুখ ঢেকে তাই- রঙ্গ করি খাসা, মুখের কালি ঢাকতে গিয়ে  হাসিই মোদের অস্ত্র - ক্ষুধার্ত পেট ঢাকতে জড়াই  হরেক রঙ্গীন বস্ত্র। তোমাদের ওই সুখের মাঝে  নেই অধিকার-ঢোকার, আমরা তবু হেসেই চলি- আমরা যে তাই "জোকার"!

অর্চিস্মিতা

 অর্চিস্মিতা অর্চিস্মিতা তোমার জন্য  অবৈধ সম্পর্কে জড়াইনি কখনো, চিন্তনে-মননে-তোমার উষ্ণ ভালবাসায়   ভাপিয়েছি আমার মন! চ্যবন্ মুনির মত আবৃত করেছিলাম  আমার আপাদমস্তক তোমার ভালবাসার-মূকাভিনয়ে। অর্চিস্মিতা তোমার জন্য- প্রানবন্ত প্রাঞ্জল হয়েছিলাম ক্ষণকাল। ধর্মভীরু যুধিষ্ঠিরের মত  জীবন্ রথের চাকা উঠে থাকত  ক"য়েক ইঞ্চি উপরে,কিন্তু-- ভালবাসার দ্রোনাচার্য কেড়ে নিল- একলব্য বিশ্বাস !! অর্চিস্মিতা তোমার জন্য  বহুবার ধোঁয়াটে হয়েছে আমার মন, অনেক উষ্ণ প্রস্রবণ গড়িয়ে পড়েছে  চোখের হৃদয় সিঞ্চন করে, তপ্ত বিছানা পরিবর্তিত হয়েছে  ভীষ্মের শরশয্যায়।  তবুও ভালবাসার কবচ-কুন্তলে  সংরক্ষিত ছিল তোমার যৌবন, অর্চিস্মিতা তোমার জন্য  কাটিয়েছি জীবন বেপরোয়া, গলাধ:করণ করেছি সব হলাহল, তবুও- জীবন আজ বড্ড আলোনা  অর্চিস্মিতা --- তুমি কি জিইয়ে রেখেছ প্রেম????

প্রত্যুষা

 প্রত্যুষা  কঙ্কালসার সকালে অজন্তার শিহরণে ঘুম ভাঙ্গে, যৌবন উদ্ভিনা অজন্তার নিতম্বের হিল্লোলে- মন ভারিক্কী-- কচুপাতায় শিশিরবিন্দুর ন্যয়। যকৃত থেকে কামনার নোনতা স্বাদ- উর্ণনাভের ন্যয় ছড়িয়ে পরে- সারা শরীরে। নাভির চারপাশে কেঁদে ওঠে বিসমিল্লার সানাই, অবদমিত হতে চায় ক্ষুধার্ত প্রাণ! কিন্তু, তারপর ??? তারপর চাই শারীরিক উষ্ণতা, পথিপার্শে লুটায়িত অন্ত:স্বত্তা পাগলিনী  কিংবা শরীর ধনী ভিখারিনীদের মত,  শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরেও  কামনার টিপ্পনী একই! সূর্যের রথ চর্কিপাক খেয়ে চলেছে  অবিরত, সাতটি সবলা ঘোড়া র মুখেতে নেই বিশ্রাম। প্লীহার জ্বরের ম্যাজ ম্যাজে শরীরে ভাসছে  হিং দেওয়া পাপড়ের আঘ্রাণ। রচনা করে চলেছে রসনার রস  শুষ্ক,শোণপাপড়ি ওষ্ঠ ! তবুও-অশ্বশক্তিতে ছুটে চলেছে জীবন, চৈত্রের ফুটিফাটা মেদিনীতে  চুল্লীতে সেকে নেওয়া রুহ !!!!

অতিথি

অতিথি অতিথি , আপনাকে স্বাগত !!! জানালার গোবরাটে - গন্ধরাজের ডালিতে , ফলসার টক - মিষ্টি স্বাদকোরকে . আপনার থেকে জানতে চাই - বহির্বিশ্বের হাল - হকীকত ! অতিথি , আপনাকে স্বাগত !!! কাকভোরের আবছায়াতে , গোধুলির অস্তে , কাকচক্ষু জলে , আপনার থেকে শুনতে চাই - রাজা উজিরের মন্ত্রণা , বুঝতে চেষ্টা করি আলিঙ্গনের উষ্ণতা , নিম্নচাপের টাটকা ভারী বাতাস !!! অতিথি , আপনাকে স্বাগত !!! স্বামী পরিত্যক্তা যুবতীর সন্দিহান চরিত্রে , কিশোরীর ঋতুচক্রের প্রথম আবর্তে . আপনার সাথে যুঝতে চাই - বিপ্লবের অলিন্দে !! অতিথি , আপনাকে স্বাগত !!! জীবন পণ করা সংসপ্তকের ঔদ্ধত্যে , অসামাজিক মধ্যবিত্তের রক্তাল্পতায় ...... আপনার নিশ্বাসে খুঁজি - উচ্চশ্রেণীর চর্ব - চর্বনের স্বাদ . অতিথি , আপনাকে স্বাগত !!! এঁচর ভরা কাঠাল গাছের পাতায় , মুকুন্দের ঝরে পরা পাপড়িতে .... আপনার বিশ্বাসে পাই - আফিঙের গভীর নেশা . অতিথি , আপনাকে স্বাগত !!! এই - গড্ডালিকা প্রবাহের চরে , শুকনো বালির...

সমাজ

সমাজ আজ কাল পরশুর রোজনামচায় - অনাহুত মুখোসের দরকার , গিরগিটি - জনগণ রাজস্তুতি গায় পঙ্কিলে সর্পিল - সরকার ! " ধর্ম " না " অধর্ম "- বিচার্য নেই আর সাদামাটা জীবনটা ? লুপ্ত , যেন - তেন - প্রকারেণ ভরে চলে কোষাগার " মানবতা "- মননেতে সুপ্ত . অবৈধ যোগাযোগে বাবা - কাকা একাকার ঘুরে - ফিরে শরীরের দাবী , নেশাতুর সমাজেতে কে বা আজ আছে কার ? " মানবতা " ক্লেদ মাঝে খাবি ! উত্কোচে উত্সব , সমাজবিরোধী সবে সমাজসেবক রূপে ঘুরছে , " টাকা মাটি - মাটি টাকা "- বচনটা মেনে তবে সমাজেতে কূপ কত খুড়ছে ! মিছিলে মিলিয়ে হাত , দশজন এক হয়ে " প্রবচন " কতই যে উড়ছে , সমাজটা দ্রুতবেগে - চলছে যে শুধু ক্ষয়ে - জনগণ ভেতরেতে পুড়ছে !!!

মহাপ্রস্থান

মহাপ্রস্থান মহাপ্রস্থানের পথে যাত্রা হলো শুরু , আজীবন রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে ক্লান্ত - বিধ্বস্ত ওরা , আজ সর্বহারার দলে ! মহার্ঘ স্বর্ণমুকুট আজ বর্জ , বর্জ - গান্ডীব , অক্ষয়তুন , ভল্ল , সঙ্গে - সত্যও ! ওরা ছয়জন চলেছে সর্বহারা ! ওদের কঠোর কৃচ্ছসাধন , অজ্ঞাতবাস - আজ নিরর্থক , মূল্যহীন ! ওরা চলেছে মহাপ্রস্থানের পথে ! ওদের স্বর্ণখচিত রাজদরবার , কোষাগারপূর্ণ মনি - মানিক আজ বড়ই অব্যক্ত , অসহায় ! বর্তমানের নিক্তিতে ওদের তুলছেন ঈশ্বর , অতীতের রোজনামচায় ! অসহনীয় পথশ্রমে ওরা ঘর্মাক্ত , ক্লান্ত , মূর্ছিত ! কিন্তু - ওরা দেবপুত্র মর্যাদাপ্রাপ্ত ! এক - এক করে মৃত্যুমুখে পতিত কর্তব্যের খতিয়ানে সর্বসান্ত ছয়জন ........! ইন্দ্ররথ ও ঈশ্বরচালিত রথের সওয়ার দিকগজ অহংকারেরা চলেছেন - তুচ্ছ সারমেয়র নির্লিপ্ত পশ্চাদপসরণে ! কুরুক্ষেত্রের অস্তগামী বীর - পুঙ্গব্গন চলেছেন - পদব্রজে স্বর্গের সিড়ির সন্ধানে --- মহা...